২০২৬ সালে নতুন বাড়ি তৈরির কাজ শুরু বা ভূমি পূজন (ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন) করার জন্য শাস্ত্রীয়ভাবে শুভ দিনগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো। ভূমি পূজনের জন্য সাধারণত বৈশাখ, শ্রাবণ, অগ্রহায়ণ ও ফাল্গুন মাসকে অত্যন্ত প্রশস্ত মনে করা হয়।
নিম্নে ১২ মাসের বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো:
জানুয়ারি ২০২৬ (পৌষ – মাঘ)
- ২৩ জানুয়ারি (৯ মাঘ): শুক্রবার, পঞ্চমী তিথি, উত্তরভাদ্রপদ নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৭:১২ থেকে সকাল ০৯:১৫ পর্যন্ত।
- ২৬ জানুয়ারি (১২ মাঘ): সোমবার, অষ্টমী তিথি, ভরণী নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৮:৩০ থেকে দুপুর ১২:০০ পর্যন্ত।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (মাঘ – ফাল্গুন)
- ৬ ফেব্রুয়ারি (২৩ মাঘ): শুক্রবার, চতুর্থী তিথি, হস্তা নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৭:০৫ থেকে সকাল ১০:৪০ পর্যন্ত।
- ১১ ফেব্রুয়ারি (২৮ মাঘ): বুধবার, নবমী তিথি, অনুরাধা নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৯:৪৫ থেকে দুপুর ০২:২০ পর্যন্ত।
- ১৯ ফেব্রুয়ারি (৭ ফাল্গুন): বৃহস্পতিবার, দ্বিতীয় তিথি, উত্তরভাদ্রপদ নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৬:৫৬ থেকে সকাল ০৯:৩০ পর্যন্ত।
মার্চ ২০২৬ (ফাল্গুন – চৈত্র)
- ৪ মার্চ (১৯ ফাল্গুন): বুধবার, প্রতিপদ তিথি, উত্তরফাল্গুনী নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৬:৪৫ থেকে সকাল ১০:১৫ পর্যন্ত।
- ৬ মার্চ (২১ ফাল্গুন): শুক্রবার, তৃতীয়া তিথি, চিত্রা নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৬:৪২ থেকে দুপুর ১২:৩০ পর্যন্ত।
- ২৬ মার্চ (১২ চৈত্র): বৃহস্পতিবার, অষ্টমী তিথি, পুনর্বসু নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৬:২৩ থেকে সকাল ০৯:০০ পর্যন্ত।
এপ্রিল ২০২৬ (চৈত্র – বৈশাখ)
- ২০ এপ্রিল (৭ বৈশাখ): সোমবার, তৃতীয়া (অক্ষয় তৃতীয়া), রোহিণী নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৫:৫১ থেকে সকাল ১০:২০ পর্যন্ত। (ভূমি পূজনের জন্য অত্যন্ত শুভ দিন)
- ৩০ এপ্রিল (১৭ বৈশাখ): বৃহস্পতিবার, ত্রয়োদশী তিথি, হস্তা নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৫:৪২ থেকে সকাল ০৯:১৫ পর্যন্ত।
মে ২০২৬ (বৈশাখ – জ্যৈষ্ঠ)
- ৮ মে (২৫ বৈশাখ): শুক্রবার, সপ্তমী তিথি, উত্তরাষাঢ়া নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৫:৩৫ থেকে দুপুর ০২:৩০ পর্যন্ত।
- ২৭ মে (১৩ জ্যৈষ্ঠ): বুধবার, একাদশী তিথি, হস্তা নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৫:২৬ থেকে সকাল ০৯:৪০ পর্যন্ত।
জুন ২০২৬ (জ্যৈষ্ঠ – আষাঢ়)
- ২৪ জুন (৯ আষাঢ়): বুধবার, দশমী তিথি, চিত্রা নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৫:২৪ থেকে দুপুর ১২:৫০ পর্যন্ত।
- ২৬ জুন (১১ আষাঢ়): শুক্রবার, দ্বাদশী তিথি, অনুরাধা নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৫:২৫ থেকে সকাল ১০:৩০ পর্যন্ত।
জুলাই ২০২৬ (আষাঢ় – শ্রাবণ)
- ২০ জুলাই (৪ শ্রাবণ): সোমবার, ষষ্ঠী তিথি, উত্তরফাল্গুনী নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৫:৩৫ থেকে সকাল ০৯:১৫ পর্যন্ত।
- ২৯ জুলাই (১৩ শ্রাবণ): বুধবার, পূর্ণিমা তিথি, শ্রবণা নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৫:৪০ থেকে দুপুর ০১:০০ পর্যন্ত।
আগস্ট ২০২৬ (শ্রাবণ – ভাদ্র)
- ৫ আগস্ট (২০ শ্রাবণ): বুধবার, সপ্তমী তিথি, অশ্বিনী নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৫:৪৪ থেকে সকাল ১০:৩০ পর্যন্ত।
- ১৪ আগস্ট (২৯ শ্রাবণ): শুক্রবার, দ্বিতীয় তিথি, মঘা নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৫:৪৯ থেকে সকাল ০৯:০০ পর্যন্ত।
সেপ্টেম্বর ২০২৬ (ভাদ্র – আশ্বিন)
(ভাদ্র মাসে সাধারণত নতুন কাজ শুরু করা এড়িয়ে চলা হয়, তবুও জরুরি প্রয়োজনে নিচের দিনটি দেখা যেতে পারে)
- ১৬ সেপ্টেম্বর (৩১ ভাদ্র): বুধবার, পঞ্চমী তিথি, বিশাখা নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৫:৫৬ থেকে সকাল ১০:১৫ পর্যন্ত।
অক্টোবর ২০২৬ (আশ্বিন – কার্তিক)
- ২১ অক্টোবর (৪ কার্তিক): বুধবার, একাদশী তিথি, শতভিষা নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৬:১৪ থেকে সকাল ০৯:৪৫ পর্যন্ত।
- ২৪ অক্টোবর (৭ কার্তিক): শনিবার, চতুর্দশী তিথি, রেবতী নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৬:১৬ থেকে সকাল ১১:৩০ পর্যন্ত।
নভেম্বর ২০২৬ (কার্তিক – অগ্রহায়ন)
- ২০ নভেম্বর (৪ অগ্রহায়ন): শুক্রবার, একাদশী তিথি, উত্তরভাদ্রপদ নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৬:৩২ থেকে দুপুর ০২:১৫ পর্যন্ত।
- ২৫ নভেম্বর (৯ অগ্রহায়ন): বুধবার, প্রতিপদ তিথি, রোহিণী নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৬:৩৫ থেকে সকাল ১০:৪৫ পর্যন্ত।
ডিসেম্বর ২০২৬ (অগ্রহায়ন – পৌষ)
- ৪ ডিসেম্বর (১৮ অগ্রহায়ন): শুক্রবার, দশমী তিথি, হস্তা নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৬:৪২ থেকে দুপুর ১২:৩০ পর্যন্ত।
- ১১ ডিসেম্বর (২৫ অগ্রহায়ন): শুক্রবার, তৃতীয়া তিথি, উত্তরাষাঢ়া নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৬:৪৭ থেকে সকাল ১০:১৫ পর্যন্ত।
- ৩০ ডিসেম্বর (১৪ পৌষ): বুধবার, সপ্তমী তিথি, উত্তরফাল্গুনী নক্ষত্র। সময়: সকাল ০৭:০২ থেকে সকাল ১১:৩০ পর্যন্ত।
ভূমি পূজনের নিয়ম ও টিপস:
- দিক নির্ণয়: ভূমি পূজন সবসময় জমির উত্তর-পূর্ব (ঈশান) কোণে করা উচিত।
- গর্ত খনন: পূজার পর প্রথম খনন উত্তর-পূর্ব কোণ থেকেই শুরু করতে হয়।
- বর্জনীয়: মঙ্গলাবার এবং শনিবার সাধারণত ভূমি পূজনের জন্য এড়িয়ে চলা হয় (যদি না বিশেষ কোনো যোগ থাকে)।
- শুভ কাল: রাহুকাল চলাকালীন পূজা করবেন না। উপরে দেওয়া সময়গুলো শুভ লগ্ন অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে।
একটি ছোট পরামর্শ: আপনার জমির অবস্থান এবং বাড়ির মালিকের জন্মরাশি অনুযায়ী লগ্ন কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। কাজ শুরুর আগে আপনার পারিবারিক পুরোহিতের সাথে একবার কথা বলে নেওয়া সবচেয়ে ভালো হবে।